ঢাকা, বাংলাদেশ | বুধবার | ২৮ অক্টবর | ২০২০ | ৬:৩০ pm

×

মতামত

এপ্রিল ১৮, ২০২০, ২:৩৭ pm

করোনার প্রতিষেধক নিয়ে গুজব , আসলেই কি উৎপাদন হচ্ছে বাংলাদেশে

Mazharul islam

ছবি -

তাবৎ দুনিয়ার এক আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস সেই আতঙ্কের এক আসার খবর দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া।বিশেষ করে বাংলাদেশে করোনা রোগী ধরা পড়ার পরে এর কৌতূহলের যেন শেষ নেই।সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি খবর ভেসে বেড়াচ্ছে বলা হচ্ছে কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি বাংলাদেশ করোনার ঔষধ আবিষ্কার করেছে।যা অল্প কিছুদিনের মধ্যে বাজারে আসবে এবং করোনা রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে এ খবরের সত্যতা কতটুকু তা আমরা যানার চেষ্টা করেছি।

ইন্টারনেটের বিভিন্ন তথ্য থেকে আমরা জানতে পারি ২০১৪সালে জাপানের তয়মা কর্পোরেশন অ্যাভিগান নামে একটি ইনফ্লুয়েঞ্জার  ওষুধ আবিষ্কার করে যেটি জ্বর সর্দি ও কাশির প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি জরুরী প্রয়োজনে ব্যবহার করার অনুমতি দেয় জাপানের সরকার তবে ওষুধটি বিদেশে রপ্তানির কোন অনুমতি দেয়নি জাপানি সরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োক্যামেস্ট্রি এবং মলিকুলার বিভাগের অধ্যক্ষ মোঃ রিয়াজুল ইসলাম তিনি ছাত্রদের যেমন পড়ান তেমন এসব নিয়ে গবেষণা করেন, তাই তার জ্ঞানের পরিধি ও এসব বিষয়ে অনেক বেশি। তিনি বলেছেন এ ওষুধের কিছু সাইড ইফেক্ট রয়েছে। যেটি গর্ভবতী মায়েদের সেবনে নিষেধ করেছিল জাপানি সরকার। কারণ যেই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে সে ওষুধ কি করোনা প্রতিষেধকের জন্য সত্যিই প্রযোজ্য এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে।

এমনি প্রশ্ন করা হলে অধ্যক্ষ মোঃ রিয়াজুল বলেছেন ক্লিনিক্যাল অ্যাপ্রভাল না পাওয়া গেলে এ সমস্ত ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি না দেয়ার জন্য। অ্যাভিগান নামের সেই ওষুধটি চীনের উহানে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরে ৩৪০ জন রোগীর মধ্যে পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করা হয় সেখানে এই ওষুধটির কিছুটা কার্যকরী ফল পাওয়া যায়।এই খবরের পরে নড়েচড়ে নড়েচড়ে বসে পৃথিবী।

সাম্প্রতিক জাপানের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন তারা ২০ লাখ ওষুধ উৎপাদন করেছেন পাশাপাশি তৃতীয় ধাপে এটির গবেষণা করছে তার দেশ। জাপানের প্রধানমন্ত্রী এটিও বলেছেন করোনা প্রতিরোধে ওষুধটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তারা বিনামূল্যে বিতরনের চিন্তাও করছেন । এর মধ্যেই  কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ওষুধটির কথা বললে ওষুধটি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে হয়ে উঠে।তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সংস্থা ওষুধটি নিয়ে এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে এবং পাশাপাশি তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশ ওষুধটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে।

গত মার্চ মাসে বাংলাদেশে প্রথম কোনো রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো ওষুধ টা নিয়ে বিস্তর গবেষণা শুরু করে এবং তারা জাপানের অ্যাভিগান ঔষধের আদলে হাইড্রক্সি ক্লোরোফিন,ফেবিপিরাভি ও রেমডিসিভি নামে তিনটি ঔষধ আবিষ্কার  করে স্কয়ার ফার্মা, বিকন ফার্মা, এস্ক্যাপ,বেক্সিমকো,জিসকা এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিক্যাল। কিন্তু এসব ফার্মাসিটিক্যাল এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন এটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে এটি করোনার জন্য পুরোপুরি কাজ করে এর কোনো ভিত্তি নেই। তবে কেন এই অপপ্রচার সোশ্যাল মিডিয়ায় ?এর ফলে কিছু কোম্পানি এটিকে চালিয়ে দিচ্ছে করানোর ওষুধ হিসেবে  এবং যেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে মানুষ এটিকে  সত্য হিসেবে মনে করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। যাতে করে সাধারণ মানুষ বারবার বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন।

বিভিন্ন গবেষক বলছেন এটি করোনা প্রতিরোধে কতটুকু কার্যকর সেটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে কারণ এটির বিভিন্ন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া আছে। করোনা রোগী বিভিন্ন বয়সের এবং গর্ভবতী মহিলারাও  আক্রান্ত হয়ে থাকেন সুতরাং এটি ব্যবহার করার পূর্বে এখনো অনেক গবেষণা দরকার আছে। তার পরে এটি প্রয়োগ করা দরকার বলে মনে করেন বিভিন্ন গবেষকরা,যেখানে জাপানে এখনো অ্যাভিগান পরীক্ষামূলক ভাবে ল্যাবে ট্রায়ালে আছে সেখানে এই ওষুধের আদলে বাংলাদেশ তৈরিকৃত এসব ওষুধ এখনই ব্যবহার করার কতটুকু যৌক্তিকতা আছে সেটা মনে করিয়ে দিলেন বাংলাদেশের গবেষকরা তারা এটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে অ্যাভিগান ওষুধটি জাপানের তয়মা কোম্পানি ছাড়া কারো তৈরি করার অনুমোদন বিশ্বের নেই।তবে আসার খবর হলো এটাই যে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে এবং অনেক দেশী বলেছে করোনার প্রতিষেধক বাজারে আসতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে, যেটি আগামী অক্টোবর বা নভেম্বর এর দিক হতে পারে।